Search engine for discovering works of Art, research articles, and books related to Art and Culture
ShareThis
Javascript must be enabled to continue!

দ্বিতীয় অধ্যায়: একাডেমিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণা-পরিমণ্ডল

View through CrossRef
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশেষ ঔপনিবেশিক, প্রাদেশিক, সাম্প্রদায়িক ও ক্ষতিপূরণ প্রত্যয়ের বিতর্ক [দ্রষ্টব্য, প্রথম অধ্যায়]। ব্রিটিশ ভারতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ ধাপে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশেষ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কলিকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়; ১৮৮৭ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়; ১৮৮৮ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয় লখনৌ ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতা ব্রিটিশ ভারতে শাসন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভূমিকা পালন করলেও একই ভাষা-অঞ্চল হিসেবে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিশ্চয়ই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মধ্যযুগে স্বল্প সময়ের জন্য কৌশলগত কারণে ঢাকার গুরুত্ব তৈরি হলেও শহরটি দীর্ঘ সময় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন করে ‘দিক ফেরানো’ কর্মকাণ্ডের সূচনা ঘটে ঢাকায়। ঔপনিবেশিক শাসকবর্গ শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যকারণ নির্ধারণ করেছিল—পূর্ববঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষা প্রসার ; স্বশাসিত ও আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব প্রয়োগ; কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংগতিগুলোর সমাধান ও তার ওপর থেকে চাপ কমানো। অবশ্য চূড়ান্ত অনুমোদনকালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত শিক্ষাদানমূলক আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কাঠামো নিশ্চিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ফিলিপ হার্টগ (১৮৬৪-১৯৪৭)ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিতেন মৌলিক গবেষণায়। জ্ঞানচর্চাকে যদি ক্ষমতায়নের বিশেষ সূত্র বিবেচনা করা যায়, তবে ইতিহাস-ঐতিহ্য অনুসন্ধান, নতুনতর শ্রেণি-গোষ্ঠী সৃষ্টি, অর্থনীতির সঙ্গে মিলেমিশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ-অঞ্চলে বিশেষ রাজনীতি তথা জাতীয়তাবোধের মাত্রান্তর ঘটিয়েছে। এ সূত্রে বিজড়িত আছে ভাষা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক বাংলা বিভাগের ভূমিকা।
Title: দ্বিতীয় অধ্যায়: একাডেমিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণা-পরিমণ্ডল
Description:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশেষ ঔপনিবেশিক, প্রাদেশিক, সাম্প্রদায়িক ও ক্ষতিপূরণ প্রত্যয়ের বিতর্ক [দ্রষ্টব্য, প্রথম অধ্যায়]। ব্রিটিশ ভারতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ ধাপে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশেষ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কলিকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়; ১৮৮৭ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়; ১৮৮৮ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয় লখনৌ ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতা ব্রিটিশ ভারতে শাসন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভূমিকা পালন করলেও একই ভাষা-অঞ্চল হিসেবে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিশ্চয়ই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মধ্যযুগে স্বল্প সময়ের জন্য কৌশলগত কারণে ঢাকার গুরুত্ব তৈরি হলেও শহরটি দীর্ঘ সময় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন করে ‘দিক ফেরানো’ কর্মকাণ্ডের সূচনা ঘটে ঢাকায়। ঔপনিবেশিক শাসকবর্গ শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যকারণ নির্ধারণ করেছিল—পূর্ববঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষা প্রসার ; স্বশাসিত ও আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব প্রয়োগ; কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংগতিগুলোর সমাধান ও তার ওপর থেকে চাপ কমানো। অবশ্য চূড়ান্ত অনুমোদনকালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত শিক্ষাদানমূলক আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কাঠামো নিশ্চিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ফিলিপ হার্টগ (১৮৬৪-১৯৪৭)ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিতেন মৌলিক গবেষণায়। জ্ঞানচর্চাকে যদি ক্ষমতায়নের বিশেষ সূত্র বিবেচনা করা যায়, তবে ইতিহাস-ঐতিহ্য অনুসন্ধান, নতুনতর শ্রেণি-গোষ্ঠী সৃষ্টি, অর্থনীতির সঙ্গে মিলেমিশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ-অঞ্চলে বিশেষ রাজনীতি তথা জাতীয়তাবোধের মাত্রান্তর ঘটিয়েছে। এ সূত্রে বিজড়িত আছে ভাষা ও সাহিত্যকেন্দ্রিক বাংলা বিভাগের ভূমিকা।.

Related Results

সম্পাদকীয় From the Editor
সম্পাদকীয় From the Editor
সম্পাদকীয় From the Editor বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি আজ আর কেবল একটি আঞ্চলিক বা জাতিগত চর্চার পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বহুভাষিক, বহুদেশিক ও বহুবিধ জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার কেন্দ্...
চতুর্থ অধ্যায়: ভাষাচর্চা
চতুর্থ অধ্যায়: ভাষাচর্চা
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী সময় থেকেই এ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, নবগঠিত ভৌগোলিক সত্তার রাষ্ট্রভাষা কী হবে। এমনকি, বাংলা ভাষা লেখার জন্য আরবি বা অন্য কোনো হরফ ব্য...
তৃতীয় অধ্যায়: লোকসাহিত্যচর্চা
তৃতীয় অধ্যায়: লোকসাহিত্যচর্চা
উপনিবেশ-বিরোধী চেতনা থেকে জাগ্রত স্বদেশপ্রেম, আত্মমর্যাদাবোধ, ঐতিহ্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ করার তীব্র আকুলতা থেকেই বাংলাভাষায় লোকসাহিত্য-চর্চার সূত্রপাত ঘটে। শতাধিক বছরের ব্রিটিশ শা...
বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে চণ্ডীদাস বিতর্ক
বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে চণ্ডীদাস বিতর্ক
বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে চন্ডীদাসের স্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চৈতন্য-পূর্ববর্তী সময় থেকেই রাধাকৃষ্ণের লীলা সংক্রান্ত পদ রচনায় ও এই সমস্ত পদে প্রেম ও ভক্তির সংমিশ্রণে দিব্যভাবের প্...
সাহিত্য পত্রিকার প্রবন্ধপঞ্জি (১৩৬৪ - ১৪০২)
সাহিত্য পত্রিকার প্রবন্ধপঞ্জি (১৩৬৪ - ১৪০২)
এখন থেকে প্রায় চার দশক আগে ১৩৬৪ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে সাহিত্য পত্রিকা-র প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় । পত্রিকার ঘোষণা অনুযায়ী এতে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং এ দে...
সাহিত্য পত্রিকার প্রবন্ধপঞ্জি (১৩৬৪ - ১৪০২)
সাহিত্য পত্রিকার প্রবন্ধপঞ্জি (১৩৬৪ - ১৪০২)
এখন থেকে প্রায় চার দশক আগে ১৩৬৪ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে সাহিত্য পত্রিকা-র প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় । পত্রিকার ঘোষণা অনুযায়ী এতে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং এ দে...
একাদশ অধ্যায়: বাংলা বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
একাদশ অধ্যায়: বাংলা বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গত একশ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ বঙ্গীয় জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়ন এবং জাতীয় সংস্কৃতি-রাজনীতি নির্মাণে প্রভূত অবদান রেখেছে। মোটা দাগে তিন ধারায় সে অবদানকে চিহ্নিত করা যায...
ফররুখ আহমদ-এর ‘মৃত-বসুধা’ ও সেলিনা হোসেন-এর ‘বৈশাখী গান’: নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা
ফররুখ আহমদ-এর ‘মৃত-বসুধা’ ও সেলিনা হোসেন-এর ‘বৈশাখী গান’: নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা
কারো কারো মতে আদিকাল তথা পৃথিবী সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই নারীরা লাঞ্ছিত এবংপদে পদে বঞ্চনা-প্রতারণার শিকার। তবে ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস তা কখনো বলেনি, বরং মধ্যযুগে কন্যা শিশুরা জন্ম থেকে...

Back to Top