Javascript must be enabled to continue!
তৃতীয় অধ্যায়: লোকসাহিত্যচর্চা
View through CrossRef
উপনিবেশ-বিরোধী চেতনা থেকে জাগ্রত স্বদেশপ্রেম, আত্মমর্যাদাবোধ, ঐতিহ্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ করার তীব্র আকুলতা থেকেই বাংলাভাষায় লোকসাহিত্য-চর্চার সূত্রপাত ঘটে। শতাধিক বছরের ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ প্রাণ পায় উনিশ শতকের শেষের দিকে, এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে বিশেষত প্রথম তিন দশকে তা প্রবল হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা লোক-সাহিত্য সংরক্ষণ ও সম্পাদনার প্রতি এদেশীয় চিন্তাশীল মনীষীদের প্রেরণা দিয়েছিল (আশরাফ, ২০১২: ৩৫)। নিজের দেশ, তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানার অর্থ নিজেকে ভালোভাবে জানা, আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়া—এ বিশ্বাসকে ধারণ করে ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ' এবং এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ছাপা হয় বাংলা লোকসাহিত্যের ওপর বাঙালির লেখা প্রথম প্রবন্ধ ‘ছেলে ভুলানো ছড়া'; প্রবন্ধকার বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। অবশ্য বিদেশিদের হাতেই বাংলা লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণার সূচনা ঘটে। ঔপনিবেশিক শাসনামলে উপনিবেশের ভিতকে পোক্ত করতে বা টিকিয়ে রাখতে ছদ্মবেশী ধর্মযাজক বা পাদ্রি ধর্মপ্রচারকেরা এ দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরেছেন, সাধারণ লোকের মন জয় করতে তাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশেছেন, এদেশের ভাষা শিখেছেন। এ সময় তাঁরা কিছু লোকজ কাহিনি বা লোকজ উপাদান সংগ্রহ করে নিজ দেশের পত্রিকায় ছেপেছেন। এদের মধ্যে রেভারেন্ড উইলিয়াম মর্টনের A collection of Proverbs (১৮৩২) বাংলা ফোকলোর চর্চার প্রথম নিদর্শন হিসেবে বিবেচ্য। বাংলা লোককথার প্রথম সার্থক সংকলন সম্ভবত লালবিহারী দে-র Folk-tales of Bengal এবং এটি লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় ১৮৮৩ সালে। ১৮৭৮ সালে লন্ডনে ফোকলোর সোসাইটির প্রতিষ্ঠা এ ধরনের কাজের প্রতি সবার আগ্রহ বাড়ায় এবং এর ফলে সমগ্র বিশ্ব জুড়েই লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও চর্চা ব্যাপকভাবে শুরু হয়।
Bangla Department publications — University of Dhaka
Title: তৃতীয় অধ্যায়: লোকসাহিত্যচর্চা
Description:
উপনিবেশ-বিরোধী চেতনা থেকে জাগ্রত স্বদেশপ্রেম, আত্মমর্যাদাবোধ, ঐতিহ্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ করার তীব্র আকুলতা থেকেই বাংলাভাষায় লোকসাহিত্য-চর্চার সূত্রপাত ঘটে। শতাধিক বছরের ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ প্রাণ পায় উনিশ শতকের শেষের দিকে, এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে বিশেষত প্রথম তিন দশকে তা প্রবল হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা লোক-সাহিত্য সংরক্ষণ ও সম্পাদনার প্রতি এদেশীয় চিন্তাশীল মনীষীদের প্রেরণা দিয়েছিল (আশরাফ, ২০১২: ৩৫)। নিজের দেশ, তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানার অর্থ নিজেকে ভালোভাবে জানা, আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়া—এ বিশ্বাসকে ধারণ করে ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ' এবং এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ছাপা হয় বাংলা লোকসাহিত্যের ওপর বাঙালির লেখা প্রথম প্রবন্ধ ‘ছেলে ভুলানো ছড়া'; প্রবন্ধকার বাংলা সাহিত্যের প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। অবশ্য বিদেশিদের হাতেই বাংলা লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণার সূচনা ঘটে। ঔপনিবেশিক শাসনামলে উপনিবেশের ভিতকে পোক্ত করতে বা টিকিয়ে রাখতে ছদ্মবেশী ধর্মযাজক বা পাদ্রি ধর্মপ্রচারকেরা এ দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরেছেন, সাধারণ লোকের মন জয় করতে তাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশেছেন, এদেশের ভাষা শিখেছেন। এ সময় তাঁরা কিছু লোকজ কাহিনি বা লোকজ উপাদান সংগ্রহ করে নিজ দেশের পত্রিকায় ছেপেছেন। এদের মধ্যে রেভারেন্ড উইলিয়াম মর্টনের A collection of Proverbs (১৮৩২) বাংলা ফোকলোর চর্চার প্রথম নিদর্শন হিসেবে বিবেচ্য। বাংলা লোককথার প্রথম সার্থক সংকলন সম্ভবত লালবিহারী দে-র Folk-tales of Bengal এবং এটি লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় ১৮৮৩ সালে। ১৮৭৮ সালে লন্ডনে ফোকলোর সোসাইটির প্রতিষ্ঠা এ ধরনের কাজের প্রতি সবার আগ্রহ বাড়ায় এবং এর ফলে সমগ্র বিশ্ব জুড়েই লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও চর্চা ব্যাপকভাবে শুরু হয়।.
Related Results
সম্পাদকীয় From the Editor
সম্পাদকীয় From the Editor
সম্পাদকীয় From the Editor
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি আজ আর কেবল একটি আঞ্চলিক বা জাতিগত চর্চার পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বহুভাষিক, বহুদেশিক ও বহুবিধ জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার কেন্দ্...
একাদশ অধ্যায়: বাংলা বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
একাদশ অধ্যায়: বাংলা বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গত একশ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ বঙ্গীয় জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়ন এবং জাতীয় সংস্কৃতি-রাজনীতি নির্মাণে প্রভূত অবদান রেখেছে। মোটা দাগে তিন ধারায় সে অবদানকে চিহ্নিত করা যায...

