Search engine for discovering works of Art, research articles, and books related to Art and Culture
ShareThis
Javascript must be enabled to continue!

Raja Rammohan Roy: Exploration of Multidimensionality

View through CrossRef
রাজা রামমোহন রায় (জন্ম ২২শে মে, ১৭৭২ খ্রিঃ) ভারতের মুক্তিদূতের অগ্রদূত। নবজাগরণের হোতা। রক্ষণশীল ভারতবাসীর যুক্তিবাদের আলোকবর্তিকা। নারী স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রধান পুরোহিত। ভারতীয় নারীদের মুক্তির স্বাদ প্রদানকারী মহামানব, চিরমানব; নারীদের জীবন দেবতা রামমোহন রায় সত্যিকারের 'রাজা'। রাজার থেকেও বেশি, তিনি হলেন ঈশ্বর। শুধু লোকেমুখে শোনা যায় বলে নয়, বিভিন্ন পণ্ডিত, গবেষক, শাস্ত্রাকার বলেন, রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ থেকে সতীদাহ নামক কু-প্রথার হাত থেকে নারীদের অকাল মৃত্যু রোধ করতে রাজা রামমোহন রায় যে ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাতে তাকে দেবতা রূপে পুজা করা উচিত। এই মহামানবের আসলেই নারীদের দ্বারা পুষ্প-পত্র, ফল-মূলে পুজিত হওয়া উচিত। তার কর্মজীবনে তিনি সতীদাহ নামক নিষ্ঠুর প্রথা বন্ধ করতে যে সফলতা পেয়েছেন এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণই তার। এটুকু বলেই শেষ করা যাবে না। সম্পূর্ণ প্রতিকুল পরিবেশে যে যুক্তির জাল বুনে তিনি মানুষকে ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বের করে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আলোকে টেনে এনেছেন- এ কৃতিত্বের অধিকার নিয়ে তাকে স্মরণ করার জন্য কাউকেই এক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। হিন্দু ধর্মের বহুত্ববাদ যেমন একদিকে মানুষকে পছন্দ করার ও স্বাধীনভাবে প্রকশের সুযোগ দেয় তেমনি অন্যদিকে যথার্থ সংহতি স্থাপনে বাঁধার সৃষ্টি করে। এই ধর্মের মধ্যে "নানা মুনির নানা মত" যা প্রকারন্তরে কোন একটি বিষয়ের যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদানে বেশিরভাগ সময়েই অসমর্থ। এই বহুত্ববাদ পরিত্যাগ করে রামমোহন বেদান্তের অদ্বৈতবাদী চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে 'একেশ্বরবাদ' প্রতিষ্ঠিত করলেন। ধর্মের এই ব্যাখ্যা তার চিন্তা- চেতনার একটি নতুন দিক উন্মোচন করল। তার নবপ্রবর্তিত ধর্মমত গড়ে উঠল বিশ্বের সমস্ত ধর্মের চিরন্তন সত্য ও যুক্তিসিদ্ধ বাণীগুলিকে কেন্দ্র করে। তার কাছে বেদ, বাইবেল, কোরআন, ত্রিপিটকের মূল্য সমান। কোন ধর্মই তার কাছে মিথ্যা নয়, বরং ধর্মকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে সকল ধর্মের মূল সত্যগুলিকে নিয়ে ধর্মীয় সংহতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছেন তার নব প্রবর্তিত 'ব্রাহ্মধর্মে'। একদিকে সামাজিক সংস্কার অন্যদিকে ধর্মীয় সংস্কারেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেন নি রামমোহন। সাধারণ মানুষ যাতে ভ্রান্ত পথে চালিত না হয়, শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা যাতে তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে না পারে, সেজন্য মানুষের মনে জ্ঞানের আলো জ্বালাতে তিনি অনুবাদ করলেন বিভিন্ন গ্রন্থ, লিখলেন সেই সব গ্রন্থের ভাষ্য। তার অগাধ পাণ্ডিত্যের কাছে হেরে গিয়েছেন তৎকালীন সমাজের শাস্ত্রীয় আলোচনার তাবড় তাবড় অপব্যাখ্যাকারী। তিনি এখানেই দমে যান নি। নিজের যুক্তি সমাজের কাছে তুলে ধরার জন্য কলম ধরলেন। তিনি সাংবাদিকতা করলেন; সম্পাদনা করলেন, খবর সংগ্রহ করলেন। আর, তা করতে গিয়ে বাস্তব সমাজের মুখোমুখি হয়েছেন বারবার। সামাজিক বাস্তবতার পটভূমিতে দাঁড়িয়ে তিনি হতাশাগ্রস্ত হলেও ভেঙ্গে পড়েন নি। রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় নীতি, সামাজিক রীতি-নীতি, শিক্ষা সমস্ত দিক থেকে মৃতবৎ মানবজাতিকে উদ্ধার করতে নেমে পরলেন সম্মুখ সমরে। ভারতীয় আধ্যাত্মবাদ ও পাশ্চাত্যের বৈজ্ঞানিক-যুক্তিবাদের মিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে উদ্যোগী হলেন। একদিকে সংস্কৃত শিক্ষা অন্যদিকে ইংরেজি শিক্ষা- উভয়কেই তিনি সমান্তরালভাবে শিক্ষাব্যবস্থার অঙ্গীভূত করার চেষ্টা করেছেন। আর এই সমস্ত বিষয়ে তিনি সাহায্য পেয়েছেন তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকের। আবার ব্রিটিশ শাসনের কুফল সম্পর্কেও তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। কিন্তু ভারতবাসীর দৈন্যতা, অশিক্ষা, স্বাধীনতা সম্পর্কে অচেতনতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে তার কাছে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি চাইলেও একাকী সেই লড়াই চালিয়ে যেতে পারতেন না। বরং বিভিন্ন প্রকার সংস্কার সাধনের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের অপশাসনের থেকে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন। ভারতবাসীর দরিদ্রতা, দৈন্যতা মুছে দেওয়ার জন্য, অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বি হওয়ার জন্য তিনি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতিও ধ্যান দিতে বলেছিলেন। রামমোহনের নারী মুক্তি আন্দোলন প্রকারন্তরে পরাধিনতার জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে ভারতবাসীর মুক্তির আন্দোলন। রামমোহনের এই বিভিন্ন প্রকারের কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশবাসিকে উদ্ধার করার জন্য যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তার জন্য কবিগুরু তাঁকে 'ভারত পথিক', 'ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ', 'নবজাগরণের অগ্রদূত' বলে আখ্যায়িত করেছেন। মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ তাকে ইংল্যান্ডে পাঠান সেখানে তাঁকে 'রাজা' উপাধি প্রদান করা হয়। ইংল্যান্ডেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (২৭শে সেপ্টেম্বর, ১৮৩৩ খ্রিঃ)। তাকে স্মরণ করে ব্রিটিশ সরকার ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে একটি রাস্তার নামকরণ করে 'রাজা রামমোহন রায় স্ট্রিট। এই গ্রন্থটিতে কেবলমাত্র রাজা রামমোহনের বিভিন্ন বিষয়ে যে অবদান এবং তার জীবন দর্শন নিয়েই আলোচনা হয় নি, রামমোহন পরবর্তী সময়ে সমগ্র ভারতবাসীর জীবন ও দর্শনে রামমোহনের যে প্রভাব তাও আলোচিত হয়েছে। রামমোহন মূলত সমাজ সংস্কারক বা ধর্মীয় সংস্কারই ছিলেন না। তার প্রতিভা ছিল বহুমুখী। সেই বহুমুখিনতাই ফুটে উঠেছে বিভিন্ন লেখক ও গবেষকের ভাবনায়। রামমোহন সত্যকে জেনেছেন, সত্যকে অবলম্বন করেছেন এবং তার কাছে সত্য হল যথার্থ জ্ঞান। এই যথার্থ জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন বিভিন্ন ধর্মীয়, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ পাঠ করে। আর সেই সত্যকে পাথেয় করে মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন অসত্য ও ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে। গঙ্গাজলে পুত্র সন্তান নিক্ষেপ, সতীদাহের বিরুদ্ধে লড়াই আসলে অসত্য ও ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে লড়াই। যুদ্ধে জয়ী হয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে রামমোহন এক নতুন ভারত গড়তে পেরেছিলেন। শুরু হল ভারতের নবজাগরন। গ্রন্থের একেবারে শুরুতে তাই নিয়েই বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে। অষ্টাদশ শতকে বিশেষত নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন সম্পর্কে তার যে চিন্তা পরবর্তী কালে সুদুর প্রসারী প্রভাব পড়েছে। সেই আলোচনাই আছে 'নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন' সম্পর্কিত অধ্যায়ে। রামমোহনের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব সতীদাহ প্রথার মতো জঘন্য ও নিষ্ঠুর প্রথা রদ করতে তার আন্দোলন। সতীদাহের ইতিহাস, তার ধর্মীয় অপব্যাখ্যা, তা রদ করতে রামমোহনের অবদান আলোচিত হয়েছে 'সামাজিক সংস্কারে রামমোহনের অবদান' নামক অধ্যায়ে। রামমোহনের সামাজিক সংস্কারের কথা বললেই ধর্মীয় সংস্কারের কথা এসে পড়ে। কারণ তার সময়ে ধর্মীয় গোঁড়ামি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে ছিল। ধর্মীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কেন ছিল ইত্যাদি নানান প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা হয়েছে 'রামমোহনের ধর্মীয় সংস্কার' নামক অধ্যায়ে। সমস্ত রকম অপব্যাখ্যা, অপলাপ, কু-যুক্তি, ভ্রান্ত আলোচনা ইত্যাদি দূর হতে পারে কেবল শিক্ষার দ্বারাই। সঠিক ও যথার্থ শিক্ষা না পেলে কোনভাবেই মানুষের মন থেকে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা যাবে না। সেজন্য তিনি শিক্ষা সংস্কারে ব্রতি হয়েছেন। তার দূরদর্শিতার জন্য মানুষের মন থেকে অশিক্ষার অন্ধকার দূর হয়ে মন বা চেতনা জ্ঞানের আলোকে আলোকিত হয়েছে। তার শিক্ষা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কেন ও কি উদ্দেশ্যে ছিল তা 'শিক্ষা সংস্কারে রামমোহনের ভূমিকা' অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে। রামমোহন তার কর্ম জীবনে যে সব সংস্কারমূলক কাজ করে গেছেন তার প্রতিটিই একটা বিশেষ সময়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার কর্মজীবনের আরও একটা দিক ছিল যা প্রায় আলোচনার বাইরেই রয়ে গিয়েছে। রামমোহনের কর্মজীবনকে দুটো ভাগে ভাগ করলে দেখা যাবে তার কর্মজীবনের প্রথম সময় কালটি নিয়ে আলোচনা যে হয় নি তা নয়, বরং তার জীবনের দ্বিতীয় পর্বের ভিত্তি হল এই প্রথম পর্বটি। এই প্রথম পর্বটিতে তিনি প্রশাসক। প্রশাসনিক কাজ করছেন, আর তা করতে গিয়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। এই অনালোচিত কালপর্বটি আলোচনা করা হয়েছে 'রাজনীতি ও রামমোহন' অধ্যায়ে। রামমোহন যে লক্ষ্যে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন তার পিছনে তার কোন না কোন লক্ষ্য ছিল। যে লক্ষ্যে তিনি এগিয়েছেন তা নির্ভর করেছে তার জীবন দর্শনের উপর। দর্শন ছাড়া কেউই কোন কর্ম করতে পারে না। রামমোহনের সর্ব প্রকার সংস্কারের মূলে দর্শনের ভূমিকা তা আলোচিত হয়েছে 'দার্শনিক রামমোহন' অধ্যায়ে। আসলে যে কোন উদ্দেশ্য বা কর্মের পিছনে থাকে দর্শন তাই একেবারে শেষে আলোচনা করা হল রামমোহনের তত্ত্ব মুলক দার্শনিক আলোচনা। আমাদের আশা গ্রন্থটি বিভিন্ন গবেষক, লেখক, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, রাজনীতিবিদ সহ সকল স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং গ্রন্থটি পাঠের মাধ্যমে তারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। সম্পাদিত এই গ্রন্থটিতে রাজা রামমোহন রায়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন সংস্কারমূলক দিক, যথা- সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কে তার তাত্ত্বিক ধ্যানধারণা তথ্যপূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আধুনিক ভারত গঠনে তার অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে 'আধুনিক ভারতের জনক' বলা হয়। তিনি ভারতীয় নারীদের দুর্দশা মোচনের জন্য এবং তাদের উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা করেছিলেন। তার একেশ্বরবাদী ধারণার মাধ্যমে তিনি সর্বধর্মের মানুষের মধ্যে একটি ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এই একেশ্বরবাদ এক শাশ্বত, নিত্য, নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনার কথা বলে। ভারতবর্ষকে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন তিনি। তিনি না থাকলে হয়তো ভারতবর্ষ সামাজিক অগ্রগতি হতে আরও পিছিয়েই থাকত। রামমোহনের সুবিশাল কর্মযজ্ঞের ফল আমরা একবিংশ শতক পেরিয়ে আরও বহুযুগ ধরে ভোগ করব। সম্পাদিত এই গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য যারা আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন এবং সাহায্য করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা ধন্যবাদ জানাই রামমোহন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি শ্রীমতী তপতী ঘোষকে। আমরা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই আমাদের কলেজের অধ্যক্ষা ড. শাশ্বতী সান্যালকে। যিনি আমাদের নিরন্তর উৎসাহ ও পরামর্শ প্রদান করেছেন গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য। আমরা তার মূল্যবান পরামর্শ মাথায় নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি। আমরা তার কাছে সবিশেষ ঋণী। রামমোহন কলেজের সঙ্গে জুড়ে আছে রাজা রামমোহন মেমোরিয়াল মিউজিয়ম। রাজা রামমোহন রায় মেমোরিয়াল মিউজিয়মের দুই প্রাণপ্রতিম, অধ্যাপিকা নন্দিতা দাশগুপ্ত ও শ্রীমতী সমিতা দাস রামমোহন রায়ের উপর সম্পাদিত গ্রন্থ বের হবে শুনে যারপরনাই খুশি হয়েছেন এবং আমাদের কৃতজ্ঞতাপশে আবদ্ধ করেছেন। আমরা তাদের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। যিনি প্রকাশিত গ্রন্থটির পরিচয় পর্বে প্রাক্ কথন লিখে আমাদের বাধিত করেছেন তিনি হলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাব্রতী শ্রী আশুতোষ সরকার মহাশয়। তিনি শুধু শিক্ষকতা নামক মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত নন, শিক্ষাকে সমস্ত সাধারন মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেবার নিরলস প্রয়াস করছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণার মাধ্যমে। তিনি এদেশে রামমোহনের একজন সার্থক উত্তরসূরী। তাকে আমাদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। যাদের কথা না বললে গ্রন্থটি অসম্পূর্ণ থাকত তারা হলেন আমাদের লেখকগণ। আমরা তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। পরিশেষে এই গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য আমরা আই আই পি ইটের্যাটিভ ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্সকে ধন্যবাদ জানাই।
Iterative International Publishers, Selfypage Developers Pvt Ltd
Title: Raja Rammohan Roy: Exploration of Multidimensionality
Description:
রাজা রামমোহন রায় (জন্ম ২২শে মে, ১৭৭২ খ্রিঃ) ভারতের মুক্তিদূতের অগ্রদূত। নবজাগরণের হোতা। রক্ষণশীল ভারতবাসীর যুক্তিবাদের আলোকবর্তিকা। নারী স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রধান পুরোহিত। ভারতীয় নারীদের মুক্তির স্বাদ প্রদানকারী মহামানব, চিরমানব; নারীদের জীবন দেবতা রামমোহন রায় সত্যিকারের 'রাজা'। রাজার থেকেও বেশি, তিনি হলেন ঈশ্বর। শুধু লোকেমুখে শোনা যায় বলে নয়, বিভিন্ন পণ্ডিত, গবেষক, শাস্ত্রাকার বলেন, রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ থেকে সতীদাহ নামক কু-প্রথার হাত থেকে নারীদের অকাল মৃত্যু রোধ করতে রাজা রামমোহন রায় যে ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাতে তাকে দেবতা রূপে পুজা করা উচিত। এই মহামানবের আসলেই নারীদের দ্বারা পুষ্প-পত্র, ফল-মূলে পুজিত হওয়া উচিত। তার কর্মজীবনে তিনি সতীদাহ নামক নিষ্ঠুর প্রথা বন্ধ করতে যে সফলতা পেয়েছেন এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণই তার। এটুকু বলেই শেষ করা যাবে না। সম্পূর্ণ প্রতিকুল পরিবেশে যে যুক্তির জাল বুনে তিনি মানুষকে ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে বের করে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আলোকে টেনে এনেছেন- এ কৃতিত্বের অধিকার নিয়ে তাকে স্মরণ করার জন্য কাউকেই এক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। হিন্দু ধর্মের বহুত্ববাদ যেমন একদিকে মানুষকে পছন্দ করার ও স্বাধীনভাবে প্রকশের সুযোগ দেয় তেমনি অন্যদিকে যথার্থ সংহতি স্থাপনে বাঁধার সৃষ্টি করে। এই ধর্মের মধ্যে "নানা মুনির নানা মত" যা প্রকারন্তরে কোন একটি বিষয়ের যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদানে বেশিরভাগ সময়েই অসমর্থ। এই বহুত্ববাদ পরিত্যাগ করে রামমোহন বেদান্তের অদ্বৈতবাদী চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে 'একেশ্বরবাদ' প্রতিষ্ঠিত করলেন। ধর্মের এই ব্যাখ্যা তার চিন্তা- চেতনার একটি নতুন দিক উন্মোচন করল। তার নবপ্রবর্তিত ধর্মমত গড়ে উঠল বিশ্বের সমস্ত ধর্মের চিরন্তন সত্য ও যুক্তিসিদ্ধ বাণীগুলিকে কেন্দ্র করে। তার কাছে বেদ, বাইবেল, কোরআন, ত্রিপিটকের মূল্য সমান। কোন ধর্মই তার কাছে মিথ্যা নয়, বরং ধর্মকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে সকল ধর্মের মূল সত্যগুলিকে নিয়ে ধর্মীয় সংহতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছেন তার নব প্রবর্তিত 'ব্রাহ্মধর্মে'। একদিকে সামাজিক সংস্কার অন্যদিকে ধর্মীয় সংস্কারেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেন নি রামমোহন। সাধারণ মানুষ যাতে ভ্রান্ত পথে চালিত না হয়, শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা যাতে তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে না পারে, সেজন্য মানুষের মনে জ্ঞানের আলো জ্বালাতে তিনি অনুবাদ করলেন বিভিন্ন গ্রন্থ, লিখলেন সেই সব গ্রন্থের ভাষ্য। তার অগাধ পাণ্ডিত্যের কাছে হেরে গিয়েছেন তৎকালীন সমাজের শাস্ত্রীয় আলোচনার তাবড় তাবড় অপব্যাখ্যাকারী। তিনি এখানেই দমে যান নি। নিজের যুক্তি সমাজের কাছে তুলে ধরার জন্য কলম ধরলেন। তিনি সাংবাদিকতা করলেন; সম্পাদনা করলেন, খবর সংগ্রহ করলেন। আর, তা করতে গিয়ে বাস্তব সমাজের মুখোমুখি হয়েছেন বারবার। সামাজিক বাস্তবতার পটভূমিতে দাঁড়িয়ে তিনি হতাশাগ্রস্ত হলেও ভেঙ্গে পড়েন নি। রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় নীতি, সামাজিক রীতি-নীতি, শিক্ষা সমস্ত দিক থেকে মৃতবৎ মানবজাতিকে উদ্ধার করতে নেমে পরলেন সম্মুখ সমরে। ভারতীয় আধ্যাত্মবাদ ও পাশ্চাত্যের বৈজ্ঞানিক-যুক্তিবাদের মিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে উদ্যোগী হলেন। একদিকে সংস্কৃত শিক্ষা অন্যদিকে ইংরেজি শিক্ষা- উভয়কেই তিনি সমান্তরালভাবে শিক্ষাব্যবস্থার অঙ্গীভূত করার চেষ্টা করেছেন। আর এই সমস্ত বিষয়ে তিনি সাহায্য পেয়েছেন তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকের। আবার ব্রিটিশ শাসনের কুফল সম্পর্কেও তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। কিন্তু ভারতবাসীর দৈন্যতা, অশিক্ষা, স্বাধীনতা সম্পর্কে অচেতনতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে তার কাছে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি চাইলেও একাকী সেই লড়াই চালিয়ে যেতে পারতেন না। বরং বিভিন্ন প্রকার সংস্কার সাধনের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের অপশাসনের থেকে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন। ভারতবাসীর দরিদ্রতা, দৈন্যতা মুছে দেওয়ার জন্য, অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বি হওয়ার জন্য তিনি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতিও ধ্যান দিতে বলেছিলেন। রামমোহনের নারী মুক্তি আন্দোলন প্রকারন্তরে পরাধিনতার জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে ভারতবাসীর মুক্তির আন্দোলন। রামমোহনের এই বিভিন্ন প্রকারের কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশবাসিকে উদ্ধার করার জন্য যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তার জন্য কবিগুরু তাঁকে 'ভারত পথিক', 'ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ', 'নবজাগরণের অগ্রদূত' বলে আখ্যায়িত করেছেন। মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ তাকে ইংল্যান্ডে পাঠান সেখানে তাঁকে 'রাজা' উপাধি প্রদান করা হয়। ইংল্যান্ডেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (২৭শে সেপ্টেম্বর, ১৮৩৩ খ্রিঃ)। তাকে স্মরণ করে ব্রিটিশ সরকার ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে একটি রাস্তার নামকরণ করে 'রাজা রামমোহন রায় স্ট্রিট। এই গ্রন্থটিতে কেবলমাত্র রাজা রামমোহনের বিভিন্ন বিষয়ে যে অবদান এবং তার জীবন দর্শন নিয়েই আলোচনা হয় নি, রামমোহন পরবর্তী সময়ে সমগ্র ভারতবাসীর জীবন ও দর্শনে রামমোহনের যে প্রভাব তাও আলোচিত হয়েছে। রামমোহন মূলত সমাজ সংস্কারক বা ধর্মীয় সংস্কারই ছিলেন না। তার প্রতিভা ছিল বহুমুখী। সেই বহুমুখিনতাই ফুটে উঠেছে বিভিন্ন লেখক ও গবেষকের ভাবনায়। রামমোহন সত্যকে জেনেছেন, সত্যকে অবলম্বন করেছেন এবং তার কাছে সত্য হল যথার্থ জ্ঞান। এই যথার্থ জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন বিভিন্ন ধর্মীয়, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ পাঠ করে। আর সেই সত্যকে পাথেয় করে মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন অসত্য ও ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে। গঙ্গাজলে পুত্র সন্তান নিক্ষেপ, সতীদাহের বিরুদ্ধে লড়াই আসলে অসত্য ও ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে লড়াই। যুদ্ধে জয়ী হয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে রামমোহন এক নতুন ভারত গড়তে পেরেছিলেন। শুরু হল ভারতের নবজাগরন। গ্রন্থের একেবারে শুরুতে তাই নিয়েই বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে। অষ্টাদশ শতকে বিশেষত নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন সম্পর্কে তার যে চিন্তা পরবর্তী কালে সুদুর প্রসারী প্রভাব পড়েছে। সেই আলোচনাই আছে 'নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন' সম্পর্কিত অধ্যায়ে। রামমোহনের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব সতীদাহ প্রথার মতো জঘন্য ও নিষ্ঠুর প্রথা রদ করতে তার আন্দোলন। সতীদাহের ইতিহাস, তার ধর্মীয় অপব্যাখ্যা, তা রদ করতে রামমোহনের অবদান আলোচিত হয়েছে 'সামাজিক সংস্কারে রামমোহনের অবদান' নামক অধ্যায়ে। রামমোহনের সামাজিক সংস্কারের কথা বললেই ধর্মীয় সংস্কারের কথা এসে পড়ে। কারণ তার সময়ে ধর্মীয় গোঁড়ামি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে ছিল। ধর্মীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কেন ছিল ইত্যাদি নানান প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা হয়েছে 'রামমোহনের ধর্মীয় সংস্কার' নামক অধ্যায়ে। সমস্ত রকম অপব্যাখ্যা, অপলাপ, কু-যুক্তি, ভ্রান্ত আলোচনা ইত্যাদি দূর হতে পারে কেবল শিক্ষার দ্বারাই। সঠিক ও যথার্থ শিক্ষা না পেলে কোনভাবেই মানুষের মন থেকে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা যাবে না। সেজন্য তিনি শিক্ষা সংস্কারে ব্রতি হয়েছেন। তার দূরদর্শিতার জন্য মানুষের মন থেকে অশিক্ষার অন্ধকার দূর হয়ে মন বা চেতনা জ্ঞানের আলোকে আলোকিত হয়েছে। তার শিক্ষা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা কেন ও কি উদ্দেশ্যে ছিল তা 'শিক্ষা সংস্কারে রামমোহনের ভূমিকা' অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে। রামমোহন তার কর্ম জীবনে যে সব সংস্কারমূলক কাজ করে গেছেন তার প্রতিটিই একটা বিশেষ সময়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার কর্মজীবনের আরও একটা দিক ছিল যা প্রায় আলোচনার বাইরেই রয়ে গিয়েছে। রামমোহনের কর্মজীবনকে দুটো ভাগে ভাগ করলে দেখা যাবে তার কর্মজীবনের প্রথম সময় কালটি নিয়ে আলোচনা যে হয় নি তা নয়, বরং তার জীবনের দ্বিতীয় পর্বের ভিত্তি হল এই প্রথম পর্বটি। এই প্রথম পর্বটিতে তিনি প্রশাসক। প্রশাসনিক কাজ করছেন, আর তা করতে গিয়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। এই অনালোচিত কালপর্বটি আলোচনা করা হয়েছে 'রাজনীতি ও রামমোহন' অধ্যায়ে। রামমোহন যে লক্ষ্যে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন তার পিছনে তার কোন না কোন লক্ষ্য ছিল। যে লক্ষ্যে তিনি এগিয়েছেন তা নির্ভর করেছে তার জীবন দর্শনের উপর। দর্শন ছাড়া কেউই কোন কর্ম করতে পারে না। রামমোহনের সর্ব প্রকার সংস্কারের মূলে দর্শনের ভূমিকা তা আলোচিত হয়েছে 'দার্শনিক রামমোহন' অধ্যায়ে। আসলে যে কোন উদ্দেশ্য বা কর্মের পিছনে থাকে দর্শন তাই একেবারে শেষে আলোচনা করা হল রামমোহনের তত্ত্ব মুলক দার্শনিক আলোচনা। আমাদের আশা গ্রন্থটি বিভিন্ন গবেষক, লেখক, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, রাজনীতিবিদ সহ সকল স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং গ্রন্থটি পাঠের মাধ্যমে তারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। সম্পাদিত এই গ্রন্থটিতে রাজা রামমোহন রায়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন সংস্কারমূলক দিক, যথা- সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কে তার তাত্ত্বিক ধ্যানধারণা তথ্যপূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আধুনিক ভারত গঠনে তার অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে 'আধুনিক ভারতের জনক' বলা হয়। তিনি ভারতীয় নারীদের দুর্দশা মোচনের জন্য এবং তাদের উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা করেছিলেন। তার একেশ্বরবাদী ধারণার মাধ্যমে তিনি সর্বধর্মের মানুষের মধ্যে একটি ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এই একেশ্বরবাদ এক শাশ্বত, নিত্য, নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনার কথা বলে। ভারতবর্ষকে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন তিনি। তিনি না থাকলে হয়তো ভারতবর্ষ সামাজিক অগ্রগতি হতে আরও পিছিয়েই থাকত। রামমোহনের সুবিশাল কর্মযজ্ঞের ফল আমরা একবিংশ শতক পেরিয়ে আরও বহুযুগ ধরে ভোগ করব। সম্পাদিত এই গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য যারা আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন এবং সাহায্য করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা ধন্যবাদ জানাই রামমোহন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি শ্রীমতী তপতী ঘোষকে। আমরা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই আমাদের কলেজের অধ্যক্ষা ড.
শাশ্বতী সান্যালকে। যিনি আমাদের নিরন্তর উৎসাহ ও পরামর্শ প্রদান করেছেন গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য। আমরা তার মূল্যবান পরামর্শ মাথায় নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি। আমরা তার কাছে সবিশেষ ঋণী। রামমোহন কলেজের সঙ্গে জুড়ে আছে রাজা রামমোহন মেমোরিয়াল মিউজিয়ম। রাজা রামমোহন রায় মেমোরিয়াল মিউজিয়মের দুই প্রাণপ্রতিম, অধ্যাপিকা নন্দিতা দাশগুপ্ত ও শ্রীমতী সমিতা দাস রামমোহন রায়ের উপর সম্পাদিত গ্রন্থ বের হবে শুনে যারপরনাই খুশি হয়েছেন এবং আমাদের কৃতজ্ঞতাপশে আবদ্ধ করেছেন। আমরা তাদের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। যিনি প্রকাশিত গ্রন্থটির পরিচয় পর্বে প্রাক্ কথন লিখে আমাদের বাধিত করেছেন তিনি হলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাব্রতী শ্রী আশুতোষ সরকার মহাশয়। তিনি শুধু শিক্ষকতা নামক মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত নন, শিক্ষাকে সমস্ত সাধারন মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেবার নিরলস প্রয়াস করছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণার মাধ্যমে। তিনি এদেশে রামমোহনের একজন সার্থক উত্তরসূরী। তাকে আমাদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। যাদের কথা না বললে গ্রন্থটি অসম্পূর্ণ থাকত তারা হলেন আমাদের লেখকগণ। আমরা তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। পরিশেষে এই গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য আমরা আই আই পি ইটের্যাটিভ ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্সকে ধন্যবাদ জানাই।.

Related Results

Raja Rammohan Roy Exploration of Multidimensionality
Raja Rammohan Roy Exploration of Multidimensionality
In this dark gloom of India's degeneration, Rammohun rose up, a luminous star in the firmament of India's history, with prophetic purity of vision and unconquerable heroism of soul...
Eksistensi Raja-Raja Kuna Nusantara: Jejak dan Periodisasi Kekuasannya
Eksistensi Raja-Raja Kuna Nusantara: Jejak dan Periodisasi Kekuasannya
Identitas bangsa merupakan salah satu hal yang perlu diperkuat. Identitas salah satunya tercermin melalui leluhur bangsa tersebut yang dapat diidentifikasi melalui berbagai sudut p...
DESAIN KATALOG RAJA KANTOR 2016
DESAIN KATALOG RAJA KANTOR 2016
ABSTRACTRaja Kantor need promotion media for his own to information his product which own by them. So, to information his product he makes a catalog namely "Raja Kantor Catalogue 2...
Kedaulatan Raja-Raja Melayu Melangkaui Peruntukan Perlembagaan Persekutuan: Implikasinya ke atas Sistem Raja Berperlembagaan di Malaysia
Kedaulatan Raja-Raja Melayu Melangkaui Peruntukan Perlembagaan Persekutuan: Implikasinya ke atas Sistem Raja Berperlembagaan di Malaysia
Malaysia mengamalkan sistem Raja Berperlembagaan iaitu Raja harus bertindak mengikut peruntukan perlembagaan yang telah ditetapkan sekaligus menutup ruang kepada kebebasan memerint...
Pemanfaatan Kulit Pisang Raja Sebagai Bahan Pembuatan Pelet
Pemanfaatan Kulit Pisang Raja Sebagai Bahan Pembuatan Pelet
Penelitian ini bertujuan untuk memanfaatkan limbah kulit pisang Raja sebagai bahan pembuatan pellet dan mengetahui bagaimana cara pembuatan pellet kulit pisang raja dan untuk menge...
STRATEGI PEMERINTAH DALAM MEMPROMOSIKAN WISATA BERSEPEDA DI PULAU AIR RAJA, BATAM
STRATEGI PEMERINTAH DALAM MEMPROMOSIKAN WISATA BERSEPEDA DI PULAU AIR RAJA, BATAM
Sebagai tempat wisata sejarah, Pulau Air Raja juga berpotensi dijadikan sebagai tempat wisata olahraga yakni bersepeda yang dicanangkan dari masyarakat setempat untuk menjadikan Pu...
Kode Hermeneutik, Kode Proaretik, dan Kode Budaya dalam Transliterasi Manuskrip Kisah Raja-Raja Jambi
Kode Hermeneutik, Kode Proaretik, dan Kode Budaya dalam Transliterasi Manuskrip Kisah Raja-Raja Jambi
Abstrak Penelitian ini bertujuan untuk mendeskripsikan tiga kode yaitu kode hermeneutik, kode proaretik, dan kode budaya dalam transliterasi manuskrip Kisah Raja-Raja Jambi. Metode...
KETURUNAN ANGLURAH SIDEMEN DALAM BABAD ARYA WANG BANG SIDEMEN (Kajian Historis)
KETURUNAN ANGLURAH SIDEMEN DALAM BABAD ARYA WANG BANG SIDEMEN (Kajian Historis)
Perjalanan hidup Anglurah Sidemen tidaklah begitu mulus. Ini terbukti dengan adanya berbagai peristiwa, bahkan hingga menyebabkan wafatnya Anglurah Sidemen II (I Gusti Kacang atau ...

Back to Top