Javascript must be enabled to continue!
জসীমউদ্দীনের গানে নারীর কণ্ঠস্বর
View through CrossRef
জসীমউদ্দীনের বহুমাত্রিক পরিচয়ের মধ্যে একটি পরিচয় হচ্ছে তিনি সংগীতজ্ঞ- একাধারে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী এবং সমঝদার শ্রোতা। তাঁর সংগীত প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর কবিপ্রতিভার সূচনা পর্ব থেকেই। ১৯২৭ সালে জসীমউদ্দীনের প্রথম গ্রন্থ 'রাখালী' প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থে আঠারোটি কবিতার পাশাপাশি সংকলিত হয় তাঁর পাঁচটি গান। এর আট বছর পরে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গানের বই 'রঙিলা নায়ের মাঝি'। এটি তাঁর ষষ্ঠ প্রকাশিত গ্রন্থ। কবির দ্বিতীয় গীতিসংকলন 'পদ্মাপার' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। 'গাঙের পার' কবির শেষ প্রকাশিত গানের বই। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। এ ছাড়াও কবির সংগৃহীত জারী গানের একটি সংকলন ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় 'জারী গান' নামে। অনুরূপভাবে কবিসংগৃহীত মুর্শীদা গানের সংকলন 'মুর্শীদা গান' প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে। 'রাখালী' কাব্যের পাঁচটি গানের কথা বাদ দিলে জসীমউদ্দীনের গানের বই মোট পাঁচটি 'রঙিলা নায়ের মাঝি', 'পদ্মাপার', 'গাঙের পার', 'জারী গান' এবং ‘মুর্শীদা গান'। এ বইগুলোর ভেতর প্রথম তিনটির সঙ্গে শেষের দুটির একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। প্রথম তিনটি গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে কবির স্বরচিত ও সংগৃহীত গান। সংগৃহীত গানগুলো আদ্যোপান্ত সংগৃহীত বা সংকলিত নয় — গানের প্রথম দুই বা চার লাইন সংগৃহীত, বাকি অংশে রয়েছে কবির স্বাধীন অনুসৃতি। প্রচলিত গ্রাম্যগানকে পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত করে কবি অনেক গানকেই পুনর্নির্মাণ করেছেন। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে এসব ‘সংগৃহীত' গানকে সংগৃহীত না বলে জসীমউদ্দীনের গান বলাই শ্রেয়। তবে শেষের দুটি গ্রন্থ – 'জারী গান' ও 'মুর্শীদা গান' একান্তভাবেই কবির সংগৃহীত গান। এসব গান কবি যে আঙ্গিকে শুনেছেন, সেই বাণী অবিকৃতভাবে তিনি সংকলিত করেছেন গায়কের নাম-ধাম-বয়স-পেশা-ঠিকানা বিস্তৃত পরিচয়সহ। সুতরাং আমাদের বর্তমান আলোচনায় জসীমউদ্দীনের গান বলতে 'রাখালী', 'রঙিলা নায়ের মাঝি’, ‘পদ্মাপার’ ও ‘গাঙের পার’ গ্রন্থভুক্ত গীতিসংকলনকে বুঝবো।
Dhaka University Library
Title: জসীমউদ্দীনের গানে নারীর কণ্ঠস্বর
Description:
জসীমউদ্দীনের বহুমাত্রিক পরিচয়ের মধ্যে একটি পরিচয় হচ্ছে তিনি সংগীতজ্ঞ- একাধারে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী এবং সমঝদার শ্রোতা। তাঁর সংগীত প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর কবিপ্রতিভার সূচনা পর্ব থেকেই। ১৯২৭ সালে জসীমউদ্দীনের প্রথম গ্রন্থ 'রাখালী' প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থে আঠারোটি কবিতার পাশাপাশি সংকলিত হয় তাঁর পাঁচটি গান। এর আট বছর পরে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গানের বই 'রঙিলা নায়ের মাঝি'। এটি তাঁর ষষ্ঠ প্রকাশিত গ্রন্থ। কবির দ্বিতীয় গীতিসংকলন 'পদ্মাপার' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। 'গাঙের পার' কবির শেষ প্রকাশিত গানের বই। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। এ ছাড়াও কবির সংগৃহীত জারী গানের একটি সংকলন ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় 'জারী গান' নামে। অনুরূপভাবে কবিসংগৃহীত মুর্শীদা গানের সংকলন 'মুর্শীদা গান' প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে। 'রাখালী' কাব্যের পাঁচটি গানের কথা বাদ দিলে জসীমউদ্দীনের গানের বই মোট পাঁচটি 'রঙিলা নায়ের মাঝি', 'পদ্মাপার', 'গাঙের পার', 'জারী গান' এবং ‘মুর্শীদা গান'। এ বইগুলোর ভেতর প্রথম তিনটির সঙ্গে শেষের দুটির একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। প্রথম তিনটি গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে কবির স্বরচিত ও সংগৃহীত গান। সংগৃহীত গানগুলো আদ্যোপান্ত সংগৃহীত বা সংকলিত নয় — গানের প্রথম দুই বা চার লাইন সংগৃহীত, বাকি অংশে রয়েছে কবির স্বাধীন অনুসৃতি। প্রচলিত গ্রাম্যগানকে পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত করে কবি অনেক গানকেই পুনর্নির্মাণ করেছেন। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে এসব ‘সংগৃহীত' গানকে সংগৃহীত না বলে জসীমউদ্দীনের গান বলাই শ্রেয়। তবে শেষের দুটি গ্রন্থ – 'জারী গান' ও 'মুর্শীদা গান' একান্তভাবেই কবির সংগৃহীত গান। এসব গান কবি যে আঙ্গিকে শুনেছেন, সেই বাণী অবিকৃতভাবে তিনি সংকলিত করেছেন গায়কের নাম-ধাম-বয়স-পেশা-ঠিকানা বিস্তৃত পরিচয়সহ। সুতরাং আমাদের বর্তমান আলোচনায় জসীমউদ্দীনের গান বলতে 'রাখালী', 'রঙিলা নায়ের মাঝি’, ‘পদ্মাপার’ ও ‘গাঙের পার’ গ্রন্থভুক্ত গীতিসংকলনকে বুঝবো।.
Related Results
জসীমউদ্দীনের গানে নারীর কণ্ঠস্বর
জসীমউদ্দীনের গানে নারীর কণ্ঠস্বর
জসীমউদ্দীনের বহুমাত্রিক পরিচয়ের মধ্যে একটি পরিচয় হচ্ছে তিনি সংগীতজ্ঞ- একাধারে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী এবং সমঝদার শ্রোতা। তাঁর সংগীত প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর কবিপ্রতি...
বাংলা কবিতায় গৃহ: একটি দ্বিমুখী উপস্থাপন
বাংলা কবিতায় গৃহ: একটি দ্বিমুখী উপস্থাপন
সভ্যতার প্রাথমিক পর্ব থেকেই মানুষ যখন ঘর বেঁধেছে আর তাকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি করেছে সংসার নামের এক বিমূর্ত ধারণা, তখন থেকেই গৃহ ও সংসারের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ন...
Raja Rammohan Roy: Exploration of Multidimensionality
Raja Rammohan Roy: Exploration of Multidimensionality
রাজা রামমোহন রায় (জন্ম ২২শে মে, ১৭৭২ খ্রিঃ) ভারতের মুক্তিদূতের অগ্রদূত। নবজাগরণের হোতা। রক্ষণশীল ভারতবাসীর যুক্তিবাদের আলোকবর্তিকা। নারী স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রধান পুরোহি...
একক মাতৃত্ব এবং সেলিনা হোসেনের দুটি গল্প
একক মাতৃত্ব এবং সেলিনা হোসেনের দুটি গল্প
ওপার বাংলার বরিষ্ঠ কথাকার সেলিনা হোসেন, সাহিত্য চর্চা করে চলেছেন দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে, দীর্ঘকাল ধরে তাঁর জনপ্রিয়তাও অব্যাহত। সমাজ-রাজনীতি এবং অর্থনীতির বহুমাত্রিক সমস্যা-সম্ভবনা ঠাঁই...
নারী নেতৃত্বের স্বরূপ: পরিপ্রেক্ষিত ইসলাম
নারী নেতৃত্বের স্বরূপ: পরিপ্রেক্ষিত ইসলাম
ইসলামি জীবনবিধান নারী পুরুষ উভয়ের জন্য। কুরআন সুন্নাহে নারী নেতৃত্ব বৈধ বা অবৈধহওয়া বিষয়ে সরাসরি বা স্পষ্ট নির্দেশ নেই। তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে তারা অংশ নিবে এ বিষয়েস্পষ্ট নির্...
বাঙালির নন্দনসূত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব
বাঙালির নন্দনসূত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব
ভারতীয় ভক্তিবাদের পঞ্চম সূত্র ‘অচিন্ত্যদ্বৈতাদ্বৈতবাদে’র অনুপ্রেরণায় ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী’ শিল্পতত্ত্বের স্বরূপ নির্ধারিত হয়েছে। এ শিল্প মতবাদের প্রবক্তা সেলিম আল দীন। দ্বৈতাদ্বৈতবাদে ...
ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (১৮ জানুয়ারি ১৯৫১ - ১০ অক্টোবর ২০২৫)
ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (১৮ জানুয়ারি ১৯৫১ - ১০ অক্টোবর ২০২৫)
ভাবনগর ফাউন্ডেশনের সাহিত্য–সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকাণ্ডের একনিষ্ঠ শুভানুধ্যায়ী এবং ভাবনগর: ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বেঙ্গল স্টাডিজ-এর সম্পাদকীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সম্মানিত সদস্য ইমেরি...
সমাজ পরিবর্তনে কীর্তন
সমাজ পরিবর্তনে কীর্তন
ভারতীয় সংস্কৃতি অনুসারে সংগীত হল গীত, বাদ্য ও নৃত্য-এই তিনের সমন্বয়। ভারতীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সুদূর অতীত কাল থেকে ধর্মীয় উপাসনার প্রধান অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হত এই সংগ...

