Javascript must be enabled to continue!
বাংলাদেশের উপন্যাস : বিষয় ও শিল্পরূপ (১৯৪৭-১৯৮৭)
View through CrossRef
ডি, এইচ, লরেন্স উপন্যাসকে বলেছেন : ওয়ান ব্রাইট বুক অফ্ লাইফ। ‘বুক অফ্ লাইফ’, কিন্তু ‘ব্রাইট' অর্থাৎ এখানে থাকবে জীবনের সমগ্রতা, তার ভালো-মন্দ উচ্চ-নিচু, শ্রী-কু সব মিলিয়ে । সঙ্গে সঙ্গে সময়ের বিস্তার এবং চারদিকের জঙ্গমও এতে হয়ে উঠবে ক্রিয়াশীল। অধ্যাপক খান পূর্ব নির্দিষ্ট সময়ের বাংলাদেশী বাংলা উপন্যাসের বিষয়-স্বাতন্ত্র্য ও আঙ্গিকগত বৈচিত্র্যের উৎস-মুখ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সঙ্গত কারণেই করেছেন এই পরিপ্রেক্ষিতের উল্লেখ : ‘উপন্যাস যেহেতু জীবনের সমগ্রতা-স্পর্শী শিল্প-আঙ্গিক, সে কারণে সমাজজীবনের অন্তর-বাহিরের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞানের রূপায়ণই তার স্বধর্ম। কারণ সময় ও সমাজ চেতনা পরিশ্রুত ব্যক্তিচৈতন্যের স্তরময় আত্মপ্রকাশ আকাঙ্ক্ষা এবং তার সামাজিকীকরণের অনিবার্যতাবোধ থেকেই শিল্প-সাহিত্যের সৃষ্টি। আর উপন্যাস শিল্প উদ্ভবের পেছনে কাজ করেছে সমাজ গঠন, আর্থ-উৎপাদন কাঠামো, জীবন অবলোকনের সমগ্রতাবোধ এবং অস্তিত্ব জিজ্ঞাসার দ্বন্দ্বময় ক্রমবিকাশের সঙ্গে সংলগ্ন শিল্প-অভিপ্ৰায়। উৎপাদন-কাঠামো ও জীবন বিন্যাসের স্বাতন্ত্র্যের কারণেই বাংলাদেশের উপন্যাসকে নির্বাচন করতে হয়েছে স্বতন্ত্র বিষয় ; এবং সন্ধান করতে হয়েছে অনিবার্য রূপাঙ্গিক।” (পৃ. ২৪-২৫) সমাজ-রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে আজকের বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্য গড়ে উঠলেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ধারায় সেই চর্যাপদের সঙ্গেই এর নাড়ির অভিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। তার পরও প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে বাংলাদেশী বাংলা সাহিত্যের মোড় ফেরা নিয়ে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি ও আমাদের পাকিস্তান প্রাপ্তির মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশী সাহিত্যের মোড় ফিরেছে বলেই আমরা সবাই মেনে নিয়েছি বা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি। একেতো অবিকশিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, অন্যদিকে সমাজ ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট কাঠামোহীনতা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানী ঔপন্যাসিকদের চিন্তায় সুনির্দিষ্টতা এনে দেয় নি। র্যাম্ফ ফক্সের মন্তব্যকে যদি স্মরণ করি, তাহলে বলতে হয় যে, উপন্যাস হলো আধুনিক বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থায় জীবনের মহাকাব্য। ওই সময় বাংলাদেশ যেহেতু আধা সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার চেয়ে উন্নত নয়, সেহেতু মান ও গুণগত দিক থেকে উপন্যাসও হয়ে উঠে নি পরিপূর্ণ ও আধুনিক। ঐ সময় থেকে আজ অবধি দেখা যায়, সংখ্যায় যতো উপন্যাস রচিত হয়েছে এই বাংলাদেশে, শিল্প নৈপুণ্যে উৎসে উঠেছে সে তুলনায় অনেক কম। এটাতো ঠিক, ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যচেতনার দ্বারাই ১৯৪৭-এ আজকের বাংলাদেশে বাংলাসাহিত্য তথা উপন্যাসের মোড় ফেরা। নইলে তারাশঙ্কর, মানিক, বিভূতিভূষণ এর সাহিত্যিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার পরিত্যাগ করে গ্রহণ করা হলো নজিবর, ওদুদ, কাজী ইমদাদুল হককে! এই সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যই বাংলাদেশী বাংলা উপন্যাসের পশ্চাৎগামিতার অন্যতম প্রধান কারণ ।'
Dhaka University Library
Title: বাংলাদেশের উপন্যাস : বিষয় ও শিল্পরূপ (১৯৪৭-১৯৮৭)
Description:
ডি, এইচ, লরেন্স উপন্যাসকে বলেছেন : ওয়ান ব্রাইট বুক অফ্ লাইফ। ‘বুক অফ্ লাইফ’, কিন্তু ‘ব্রাইট' অর্থাৎ এখানে থাকবে জীবনের সমগ্রতা, তার ভালো-মন্দ উচ্চ-নিচু, শ্রী-কু সব মিলিয়ে । সঙ্গে সঙ্গে সময়ের বিস্তার এবং চারদিকের জঙ্গমও এতে হয়ে উঠবে ক্রিয়াশীল। অধ্যাপক খান পূর্ব নির্দিষ্ট সময়ের বাংলাদেশী বাংলা উপন্যাসের বিষয়-স্বাতন্ত্র্য ও আঙ্গিকগত বৈচিত্র্যের উৎস-মুখ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সঙ্গত কারণেই করেছেন এই পরিপ্রেক্ষিতের উল্লেখ : ‘উপন্যাস যেহেতু জীবনের সমগ্রতা-স্পর্শী শিল্প-আঙ্গিক, সে কারণে সমাজজীবনের অন্তর-বাহিরের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞানের রূপায়ণই তার স্বধর্ম। কারণ সময় ও সমাজ চেতনা পরিশ্রুত ব্যক্তিচৈতন্যের স্তরময় আত্মপ্রকাশ আকাঙ্ক্ষা এবং তার সামাজিকীকরণের অনিবার্যতাবোধ থেকেই শিল্প-সাহিত্যের সৃষ্টি। আর উপন্যাস শিল্প উদ্ভবের পেছনে কাজ করেছে সমাজ গঠন, আর্থ-উৎপাদন কাঠামো, জীবন অবলোকনের সমগ্রতাবোধ এবং অস্তিত্ব জিজ্ঞাসার দ্বন্দ্বময় ক্রমবিকাশের সঙ্গে সংলগ্ন শিল্প-অভিপ্ৰায়। উৎপাদন-কাঠামো ও জীবন বিন্যাসের স্বাতন্ত্র্যের কারণেই বাংলাদেশের উপন্যাসকে নির্বাচন করতে হয়েছে স্বতন্ত্র বিষয় ; এবং সন্ধান করতে হয়েছে অনিবার্য রূপাঙ্গিক।” (পৃ.
২৪-২৫) সমাজ-রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে আজকের বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্য গড়ে উঠলেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ধারায় সেই চর্যাপদের সঙ্গেই এর নাড়ির অভিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। তার পরও প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে বাংলাদেশী বাংলা সাহিত্যের মোড় ফেরা নিয়ে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি ও আমাদের পাকিস্তান প্রাপ্তির মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশী সাহিত্যের মোড় ফিরেছে বলেই আমরা সবাই মেনে নিয়েছি বা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি। একেতো অবিকশিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, অন্যদিকে সমাজ ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট কাঠামোহীনতা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানী ঔপন্যাসিকদের চিন্তায় সুনির্দিষ্টতা এনে দেয় নি। র্যাম্ফ ফক্সের মন্তব্যকে যদি স্মরণ করি, তাহলে বলতে হয় যে, উপন্যাস হলো আধুনিক বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থায় জীবনের মহাকাব্য। ওই সময় বাংলাদেশ যেহেতু আধা সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার চেয়ে উন্নত নয়, সেহেতু মান ও গুণগত দিক থেকে উপন্যাসও হয়ে উঠে নি পরিপূর্ণ ও আধুনিক। ঐ সময় থেকে আজ অবধি দেখা যায়, সংখ্যায় যতো উপন্যাস রচিত হয়েছে এই বাংলাদেশে, শিল্প নৈপুণ্যে উৎসে উঠেছে সে তুলনায় অনেক কম। এটাতো ঠিক, ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যচেতনার দ্বারাই ১৯৪৭-এ আজকের বাংলাদেশে বাংলাসাহিত্য তথা উপন্যাসের মোড় ফেরা। নইলে তারাশঙ্কর, মানিক, বিভূতিভূষণ এর সাহিত্যিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার পরিত্যাগ করে গ্রহণ করা হলো নজিবর, ওদুদ, কাজী ইমদাদুল হককে! এই সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যই বাংলাদেশী বাংলা উপন্যাসের পশ্চাৎগামিতার অন্যতম প্রধান কারণ ।'.
Related Results
একাদশ অধ্যায়: বাংলা বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
একাদশ অধ্যায়: বাংলা বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গত একশ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ বঙ্গীয় জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়ন এবং জাতীয় সংস্কৃতি-রাজনীতি নির্মাণে প্রভূত অবদান রেখেছে। মোটা দাগে তিন ধারায় সে অবদানকে চিহ্নিত করা যায...
বাংলাদেশের উত্তরাধুনিক কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য
বাংলাদেশের উত্তরাধুনিক কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য
আধুনিকতাবাদীদের বিশ্বাসের, চিন্তাশীলতার ও জীবনানুভবের রূপায়ণ আধুনিক কবিতা। তেমনই, উত্তরাধুনিক কবিতাও উত্তরাধুনিক উপলব্ধির শিল্পরূপায়ণ। ‘আধুনিকতা’ এবং ‘উত্তরাধুনিকতা’—দুটিই পশ্চিমা ...
ফররুখ আহমদ-এর ‘মৃত-বসুধা’ ও সেলিনা হোসেন-এর ‘বৈশাখী গান’: নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা
ফররুখ আহমদ-এর ‘মৃত-বসুধা’ ও সেলিনা হোসেন-এর ‘বৈশাখী গান’: নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা
কারো কারো মতে আদিকাল তথা পৃথিবী সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই নারীরা লাঞ্ছিত এবংপদে পদে বঞ্চনা-প্রতারণার শিকার। তবে ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস তা কখনো বলেনি, বরং মধ্যযুগে কন্যা শিশুরা জন্ম থেকে...
শতবর্ষে বাংলা বিভাগ: বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক বিনির্মাণ
শতবর্ষে বাংলা বিভাগ: বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক বিনির্মাণ
একটি বিশেষ রাজনৈতিক পটভূমিতে সৃষ্টি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে নতুন প্রদেশ সৃষ্টির ফলে পশ্চাৎপদ পূর্ববঙ্গীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমৃদ্ধির যে আশা জাগ্...

