Javascript must be enabled to continue!
শ্রীরামকৃষ্ণ ও বঙ্গরঙ্গমঞ্চ
View through CrossRef
শ্রীরামকৃষ্ণ ও বঙ্গরঙ্গমঞ্চ সম্পর্কে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত বহু তথ্য পাওয়া যায়, ডক্টর হেমেন্দ্র নাথ দাশগুপ্ত রচিত “ভক্ত ভৈরব গিরিশ চন্দ্র'' গ্রন্থে একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আমরা পাই, কিন্তু সেখানে গিরিশচন্দ্র মুখ্য, রামকৃষ্ণ কৃপালাভে ধন্য নট ও নাট্যকার গিরিশকেই মূলতঃ লেখক তুলে ধরতে চেয়েছেন। সংক্ষেপে বলা যায় গ্রন্থখান৷ গিরিশ জীবনের খণ্ডাংশ। বর্তমান গ্রন্থের লেখক শ্রীনলিনীরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ‘শ্রীরামকৃষ্ণ ও বঙ্গরঙ্গমঞ্চ' গ্রন্থে বাংলাদেশের বহু নট, নটী, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ কর্তৃক শ্রীরামকৃষ্ণ আজও যে মঞ্চের যবনিক। অন্তরালে একান্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে আসীন তার একটি ধারাবাহিক, বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করেছেন। এ কাজ একান্তভাবেই শ্রমসাধ্য; গবেষকের নিষ্ঠা এবং ভক্তের সাধনা নিয়েই তিনি এ গুরু দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছেন বলেই আমার ধারণা। গিরিশচন্দ্রের ভক্তিমূলক নাটকগুলিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃত পরিবেশিত হয়েছে। তাঁর 'বিল্বমঙ্গল,' 'নসীরাম,' ‘করমেতিবাঈ' নাটক প্রসঙ্গে শুধু শ্রীরামকৃষ্ণের প্রভাব নয়, তাঁর মুখের বাণীকেই বিশেষ বিশেষ চরিত্রের মাধ্যমে গিরিশচন্দ্র প্রকাশ ও প্রচার করেছেন। এ সম্পর্কে নট ও ব্যক্তি গিরিশ শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যসম্প্রদায়ভুক্ত। এ গ্রন্থের মূল বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক চিন্তাধারা যা আমি অনুধাবন করেছি তা হচ্ছে তৎকালীন অবহেলিত মঞ্চের নটনটীদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা দানে রামকৃষ্ণের প্রয়াস। কারণ তাঁর মতে নাটক সমাজসেবা, মানবকল্যাণের বাহন। অন্যপক্ষে তিনি পতিত-পাবন শুধু ন'ন পতিতাপাবনও। আজ অভিনেতা অভিনেত্রীরা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার শুধু নয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গৌরবজনক প্রশংসাসূচক সম্মানে ভূষিত হয়ে থাকেন৷ 'অর্ধশতাব্দী পূর্বে এ ছিল স্বপ্নেরও অগোচর। শিশিরকুমার ভাদুড়ীর আমেরিকা গমন ও তার ফলাফলের কথা অনেকেই জানেন। বিশেষত: অভিনেত্রীর। সমাজে শুধু ব্রাত্যই ছিলেন না, ছিলেন অপাংক্তেয়, ক্ষেত্র বিশেষে অস্পৃশ্য। রামকৃষ্ণ মানুষের ভেতর স্রষ্টাকে উপলব্ধি করেছেন এবং মঞ্চের জগতে যাঁরা এসেছেন তাঁরা নিষ্ঠা নিয়ে মানব কল্যাণসাধন করে চলেছেন। অতএব ব্যক্তি হিসাবে তাঁরা একান্তভাবে শ্রদ্ধার পাত্র-পাত্রী। ভাবতে বিসায় লাগে অভিনেত্রীদেরকে প্রদত্ত এ সম্মানের জন্য তৎকালীন নারী-প্রগতির পুরোধা ও নারীকল্যাণ হোতা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পর্যন্ত শ্রীরাম-কৃষ্ণের প্রতি বিরূপ হয়েছিলেন। এ গ্রন্থে তার উল্লেখ আছে।
Title: শ্রীরামকৃষ্ণ ও বঙ্গরঙ্গমঞ্চ
Description:
শ্রীরামকৃষ্ণ ও বঙ্গরঙ্গমঞ্চ সম্পর্কে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত বহু তথ্য পাওয়া যায়, ডক্টর হেমেন্দ্র নাথ দাশগুপ্ত রচিত “ভক্ত ভৈরব গিরিশ চন্দ্র'' গ্রন্থে একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আমরা পাই, কিন্তু সেখানে গিরিশচন্দ্র মুখ্য, রামকৃষ্ণ কৃপালাভে ধন্য নট ও নাট্যকার গিরিশকেই মূলতঃ লেখক তুলে ধরতে চেয়েছেন। সংক্ষেপে বলা যায় গ্রন্থখান৷ গিরিশ জীবনের খণ্ডাংশ। বর্তমান গ্রন্থের লেখক শ্রীনলিনীরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ‘শ্রীরামকৃষ্ণ ও বঙ্গরঙ্গমঞ্চ' গ্রন্থে বাংলাদেশের বহু নট, নটী, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ কর্তৃক শ্রীরামকৃষ্ণ আজও যে মঞ্চের যবনিক। অন্তরালে একান্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে আসীন তার একটি ধারাবাহিক, বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করেছেন। এ কাজ একান্তভাবেই শ্রমসাধ্য; গবেষকের নিষ্ঠা এবং ভক্তের সাধনা নিয়েই তিনি এ গুরু দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছেন বলেই আমার ধারণা। গিরিশচন্দ্রের ভক্তিমূলক নাটকগুলিতে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃত পরিবেশিত হয়েছে। তাঁর 'বিল্বমঙ্গল,' 'নসীরাম,' ‘করমেতিবাঈ' নাটক প্রসঙ্গে শুধু শ্রীরামকৃষ্ণের প্রভাব নয়, তাঁর মুখের বাণীকেই বিশেষ বিশেষ চরিত্রের মাধ্যমে গিরিশচন্দ্র প্রকাশ ও প্রচার করেছেন। এ সম্পর্কে নট ও ব্যক্তি গিরিশ শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যসম্প্রদায়ভুক্ত। এ গ্রন্থের মূল বৈশিষ্ট্য ও মৌলিক চিন্তাধারা যা আমি অনুধাবন করেছি তা হচ্ছে তৎকালীন অবহেলিত মঞ্চের নটনটীদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা দানে রামকৃষ্ণের প্রয়াস। কারণ তাঁর মতে নাটক সমাজসেবা, মানবকল্যাণের বাহন। অন্যপক্ষে তিনি পতিত-পাবন শুধু ন'ন পতিতাপাবনও। আজ অভিনেতা অভিনেত্রীরা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার শুধু নয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গৌরবজনক প্রশংসাসূচক সম্মানে ভূষিত হয়ে থাকেন৷ 'অর্ধশতাব্দী পূর্বে এ ছিল স্বপ্নেরও অগোচর। শিশিরকুমার ভাদুড়ীর আমেরিকা গমন ও তার ফলাফলের কথা অনেকেই জানেন। বিশেষত: অভিনেত্রীর। সমাজে শুধু ব্রাত্যই ছিলেন না, ছিলেন অপাংক্তেয়, ক্ষেত্র বিশেষে অস্পৃশ্য। রামকৃষ্ণ মানুষের ভেতর স্রষ্টাকে উপলব্ধি করেছেন এবং মঞ্চের জগতে যাঁরা এসেছেন তাঁরা নিষ্ঠা নিয়ে মানব কল্যাণসাধন করে চলেছেন। অতএব ব্যক্তি হিসাবে তাঁরা একান্তভাবে শ্রদ্ধার পাত্র-পাত্রী। ভাবতে বিসায় লাগে অভিনেত্রীদেরকে প্রদত্ত এ সম্মানের জন্য তৎকালীন নারী-প্রগতির পুরোধা ও নারীকল্যাণ হোতা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পর্যন্ত শ্রীরাম-কৃষ্ণের প্রতি বিরূপ হয়েছিলেন। এ গ্রন্থে তার উল্লেখ আছে।.

